ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর লক্ষণ&খাবার তালিকা

ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর লক্ষণ।ক্যান্সারের নাম শুনলেই বেশিরভাগ মানুষ যেটি মনে করেন তা হচ্ছে, এটি একটি মারাত্মক রোগ যাতে আক্রান্তরা মারা যান।কিন্তু ৭০ এর দশকের পর থেকে ক্যান্সারে আক্রান্তদের বেঁচে থাকার হার তিনগুণ বেড়েছে। আর এর সবই সম্ভব হয়েছে প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা করানোর কারণে।বাস্তবে, বেশিরভাগ ক্যান্সারই চিকিৎসা যোগ্য এবং যেসব রোগীরা খুব মারাত্মক পর্যায়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আগে চিকিৎসা করানোর সুযোগ পান তারা একটি ভাল ফলও পান।

ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর লক্ষণ

ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর লক্ষণ
ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর লক্ষণ post

মানবদেহে যে সকল স্থানে ক্যান্সার ধরা পড়েছে তা হল প্রস্টেট গ্রন্থি, স্তন, জরায়ু, অগ্ন্যাশয়, রক্তের ক্যান্সার, চামড়ায় ক্যান্সার ইত্যাদি। একেক ক্যান্সারের জন্য একেক ধরনের লক্ষণ বা উপসর্গ থাকে। তবে সাধারণ কিছু লক্ষণ হচ্ছে:

>খুব ক্লান্ত বোধ করা

>ক্ষুধা কমে যাওয়া

>শরীরের যে কোনজায়গায় চাকা বা দলা দেখা দেয়া

>দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা গলা ভাঙা

>রাতে ঠান্ডা লাগা বা ঘেমে যাওয়া

>অস্বাভাবিক রক্তপাত হওয়া

>ত্বকের পরিবর্তন দেখা যাওয়া

>হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস পাওয়া

>দীর্ঘদিনের ব্যথা

>খাবার গ্রহণে সমস্যা

ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর ১০ লক্ষণ

Safolhon.com ক্যান্সারের এমন ১০টি সাধারণ উপসর্গের বিষয়ে জানাবে যেগুলোকে অবহেলা করা উচিত নয় বলে আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি মনে করে।

1.কারণ ছাড়া ওজন কমে যাওয়া

ক্যান্সার আক্রান্ত বেশিরভাগ মানুষই কোন না কোন সময় ওজন হারাতে শুরু করে। যখন আপনি কোন ধরনের কারণ ছাড়াই ওজন হারাতে শুরু করেন, এটাকে বলা হয় ব্যাখ্যাহীন ওজন হারানো।ব্যাখ্যাহীনভাবে বা কোন কারণ ছাড়াই পাঁচ কেজি বা তার বেশি ওজন কমলে সেটি ক্যান্সারের প্রথম লক্ষণ হতে পারে।

2.জ্বর

ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের সবচেয়ে সাধারণ একটি উপসর্গ হচ্ছে জ্বর। অবশ্য যে স্থানে ক্যান্সার উৎপন্ন হয়েছে সেখান থেকে দেহের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়া শুরু হলে তখন প্রায়ই জ্বর দেখা দেয়।

3. ক্লান্তি

এখানে ক্লান্তি বলতে বোঝায় চরম ক্লান্তিভাব যা বিশ্রাম নেয়ার পরও দূর হয় না। ক্যান্সার বাড়ার সাথে সাথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ হিসেবে দেখা দিতে পারে।

4. ত্বকে পরিবর্তন

ত্বকের ক্যান্সার ছাড়াও আরো কিছু ক্যান্সার রয়েছে যাতে আক্রান্ত হলে ত্বকে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

5. অন্ত্রের ক্রিয়া বা মূত্রাশয়ের কার্যক্রমে পরিবর্তন

কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া বা আপনার মলের আকারে দীর্ঘদিন ধরে পরিবর্তন মলাশয়ের ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।

6. যে ক্ষত ভাল হয় না

অনেকেই জানেন যে দেহে যদি কোন আঁচিল থাকে যেটি বাড়ে বা ব্যথা হয় বা সেটি থেকে রক্তপাত হয় তাহলে সেটি ত্বকের ক্যান্সারের একটি লক্ষণ হতে পারে।

7. রক্তপাত

পারে। কাশির সাথে রক্তপাত ফুসফুসের ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।ক্যান্সারের ক্ষেত্রে প্রাথমিক অবস্থায় কিংবা তা ছড়িয়ে পড়ার পর অস্বাভাবিক রক্তপাত হতে

8.শরীরের যে কোন স্থান শক্ত হয়ে যাওয়া

অনেক ক্যান্সার ত্বকের মাধ্যমে শনাক্ত করা যেতে পারে। এ ধরণের ক্যান্সার সাধারণত স্তন, অণ্ডকোষ, গ্রন্থি এবং শরীরের নরম টিস্যুতে হয়ে থাকে।

9. গিলতে অসুবিধা

ক্রমাগত বদহজম বা কোন কিছু গিলতে গেলে সমস্যা হলে সেটা ইসোফ্যাগাস, পাকস্থলী বা গলার ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।

10. টানা কাশি বা কণ্ঠস্বরে পরিবর্তন

টানা কাশি ফুসফুসের ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

কি খেলে ক্যান্সার হয় না

কি খেলে ক্যান্সার হয় না
ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর লক্ষণ

শরীরকে ফিট রাখতে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে প্রতিদিনের খাবারে কোন খাবারগুলো রাখতে পারেন আসুন জেনে নেই আজকের আয়োজনে-

1। মাশরুম: ক্যানসার প্রতিরোধক খাবারের নামের তালিকায় প্রথমেই যেই খাবারের নামের কথা চলে আসে, তা হলো মাশরুম। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। শরীরের ক্যানসার প্রতিরোধে সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন এই খাবারটি ডায়েটলিস্টে রাখতে পারেন।

2। কোলিনসমৃদ্ধ সবুজ শাকসবজি: ক্যানসার প্রতিরোধে খেতে পারেন কোলিনসমৃদ্ধ সবুজ শাকসবজি। কোলিনসমৃদ্ধ সবুজ শাকসবজির মধ্যে রয়েছে ব্রকোলি, বাঁধাকপি, ফুলকপি, শর্ষেশাক, মুলা ইত্যাদি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব শাকসবজি ক্যানসার প্রতিরোধে দারুণ কাজ করে।

3। এপিজেনিন যৌগসমৃদ্ধ খাবারযেসব খাবার এপিজেনিন যৌগসমৃদ্ধ সেসব খাবার শরীরে ক্যানসারের বীজকে মেরে ফেলতে পারে। তাই শরীরে সুরক্ষাকবচ হিসেবে এপিজেনিন যৌগসমৃদ্ধ খাবার খেতে পারেন। চেরি, আঙুর, ধনেপাতা, পার্সলে পাতা, আপেলের মতো খাবারগুলোতে প্রচুর পরিমাণে এপিজেনিন যৌগ রয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এসব খাবার স্তন ক্যানসার, প্রস্টেট ক্যানসার, ফুসফুস ক্যানসার, ত্বকের ক্যানসার ও কোলন ক্যানসারের আশঙ্কা কমায়।

4। ভিটামিন সি: ভিটামিন সি সমৃদ্ধ কিউয়ি ফল খেতে পারেন। এই ফল প্রাকৃতিকভাবে ডিএনএ মেরামত করতে করে। বিশেষজ্ঞরা বলছে কেমোথেরাপির পর কিউয়ি ফল রোগীর শরীরে খুব ভালো কাজ করে। কিউয়ি ফল ছাড়াও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ যেকোনো ফল যেমন কমলালেবু, পাতিলেবু, আঙুর ডায়েটে প্রাধান্য দিন। শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে ভিটামিন সি ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।

5। গ্রিন টিশরীরের কোষগুলোর সুরক্ষার জন্য পান করতে পারেন গ্রিন টি। এতে রয়েছে ইজিসিজি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীরের প্রদাহ দমন করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে।

6। রসুনক্যানসার প্রতিরোধে রসুনের বিকল্প নেই। রসুনের অ্যালিসিন নামক যৌগ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের আশঙ্কা কমাতে সাহায্য করে। এটি মূলত ক্যানসারের কোষগুলোকে ধ্বংস করতে সাহায্য করে। তাই রান্নায় রসুনের পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। দুপুরের খাবারে এক কোয়া রসুনও রাখতে পারেন।

ক্যান্সার রোগীর খাবার তালিকা>

ক্যান্সার রোগীর খাবার তালিকা>
ক্যান্সার রোগীর খাবার তালিকা>

1.রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং ক্যান্সার কোষ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে যা>

2.ফলমূল সমৃদ্ধ খাবার পাকস্থলী ও ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

3.গাজর, ব্রাসেলস স্প্রাউট এবং কুমড়ার মতো ক্যারোটিনয়েডযুক্ত শাকসবজি খাওয়া ফুসফুস, মুখ, গলবিল এবং স্বরযন্ত্রের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে পারে।

4.ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য খাবারের মধ্যে ব্রকলি, পালংশাক এবং মটরশুঁটির মতো স্টার্চি খাবারও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যা পাকস্থলী এবং খাদ্যনালীর ক্যান্সার থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে।

5.কমলালেবু, বেরি, মটর, গোলমরিচ, গাঢ় সবুজ শাকসবজি এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ অন্যান্য খাবার খাওয়া খাদ্যনালীর ক্যান্সার থেকে রক্ষা করতে পারে।

6.প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধী খাবারের মধ্যে টমেটো, পেয়ারা এবং তরমুজের মতো লাইকোপিন বেশি থাকে।

লিভার ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর লক্ষণ>

লিভার ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর লক্ষণ>
ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর লক্ষণ

1.লিভার ক্যান্সার বেশিরভাগ সময় উপসর্গহীন। প্রারম্ভিক সতর্কতা সংকেত সনাক্তকরণ
যকৃতের ক্যান্সার প্রাথমিক চিকিৎসার সুবিধা দিয়ে ফলাফলকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
দেখার জন্য সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে:

2.অব্যক্ত ওজন হ্রাস: স্পষ্ট কারণ ছাড়াই হঠাৎ এবং অনিচ্ছাকৃত ওজন হ্রাস
লিভার ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।

3.ক্ষুধা হ্রাস: ক্রমাগত ক্ষুধা না থাকা এবং অল্প খাওয়ার পরে তৃপ্ত বোধ করা
পরিমাণে।

4.উপরের পেটে ব্যথা: পেটের উপরের ডানদিকে অস্বস্তি বা ব্যথা
লিভার সমস্যা নির্দেশ করতে পারে।

5.বমি বমি ভাব এবং বমি: ঘন ঘন বমি বমি ভাব বা বমি যা অন্যের সাথে সম্পর্কিত নয়

শর্ত<

1.সাধারণ দুর্বলতা এবং ক্লান্তি: ব্যাখ্যাতীত এবং ক্রমাগত ক্লান্তি এবং দুর্বলতা।

2.বর্ধিত লিভার বা প্লীহা: ডান দিকে পাঁজরের নীচে একটি লক্ষণীয় পিণ্ড (বড় করা
লিভার) বা বাম দিকে (বর্ধিত প্লীহা)

3.জন্ডিস: ত্বক এবং চোখের হলুদ হওয়া, লিভারের সম্ভাব্য সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।

4.পেট ফুলে যাওয়া: তরল জমার কারণে পেট ফুলে যাওয়া বা ফোলাভাব
(অ্যাসাইটস)।

ব্লাড ক্যান্সার হলে কতদিন বাঁচে>

ব্লাড ক্যানসারের উপসর্গগুলো কী এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা.এম.মুর্শেদ জামান মিঞা বলেন, ‘সাধারণত এটি দীর্ঘমেয়াদি হয়। অর্থাৎ ক্রোমোজোম পরিবর্তন হওয়ার পর সিএমএল রোগের উপসর্গে আসতে আট বছরের মতো সময় লাগে। উন্নত দেশে সব সময় চেকআপ করার কারণে তারা আগেই লক্ষণগুলো বুঝতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে অসুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বোঝা যায় না। তাই শনাক্ত করতেও দেরি হয়ে যায়। ফলে পেটের ভেতরের স্প্লিন বা প্লীহা বড় হয়ে যাওয়া, গায়ে তীব্র ব্যথা করা, ছোট ছোট গুটি ওঠা, কাজে ও খাওয়ায় অরুচি, অল্পতে হাঁপিয়ে যাওয়া, রক্তনালি বন্ধ হওয়া ইত্যাদি ব্লাড ক্যানসারের উপসর্গ।’

ডা.এম.মুর্শেদ জামান মিঞা বলেন, ‘বাংলাদেশেই সিএমএল বা ব্লাড ক্যানসারের বিশ্বমানের চিকিৎসা রয়েছে। তাই এটা নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তবে রোগীকে প্রাথমিক পর্যায়েই চিকিৎসকের কাছে আসতে হবে।

কি খেলে ব্লাড ক্যান্সার হয়

কিছু নির্দিষ্ট খাবার রয়েছে যা দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের কারণ হয়ে ওঠে। তাই শুরুতেই  বিষয়টি নিয়ে অবগত হন এবং সেই সমস্ত খাবার খাওয়া বন্ধ করুন। 

প্যাকেটজাত দ্রব্য>

প্যাকেটজাত খাবার থেকে দূরে থাকুন। 

সাদা ময়দা>

সাদা ময়দা ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই  রিফাইন্ড ময়দায় রঙ করার জন্য রাসায়নিক পদার্থ দেওয়া হয়ে থাকে কিছু ক্ষেত্রে। অন্য দিকে ময়দা  রক্তে শর্করার মাত্রাও বাড়িয়ে দেয়। 

সব্জির তেল>

আমরা রান্না করা প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই উদ্ভিজ্জ তেল ব্যবহার করতে পছন্দ করি, তা সে সাবজি বা স্বাস্থ্যকর খাবারই হোক। তবে দুর্ভাগ্যক্রমে, এটি আপনার পক্ষে ভাল নয়। এটি একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া দ্বারা উত্তোলন করা হয়, যা অত্যন্ত ক্ষতিকারক।

রেড মিট>

বিশেষজ্ঞদের মতে অতিরিক্ত রেড মিট খেলে অগ্ন্যাশয় ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার বা কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের সম্ভাবনা প্রবল থাকবে। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন অনুসারে ক্যান্সার কাউন্সিলের মতে, ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করার জন্য একজনকে অবশ্যই প্রতি দিন রেড মিট খাওয়া উচিত নয়। 

শেষ কথা>

বন্ধুরা আশা করি আজকের এই আর্টিকেলে ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর লক্ষণ&খাবার তালিকা আপনাদের কাছে খুবই ভালো লেগেছে। ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর লক্ষণ&খাবার তালিকা আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অবশ্যই আপনি আপনার বন্ধু-বান্ধবের সাথে শেয়ার করবেন।

আর হ্যাঁ ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর লক্ষণ&খাবার তালিকা আর্টিকেল সম্পর্কে যদি আপনার কোন মতামত থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করবেন। আমরা যথা সময় আপনার কমেন্টের রিপ্লাই দিব।

Leave a Comment